- 1901
২৮ জুলাই ১৯০১ কলকাতায় জন্ম। বাবা কালীকুমার সিংহ, মা সরলা দেবী। (বাংলাপিডিয়ায় জন্মতারিখ ২৮ জুন ১৯০১, সুসং-দুর্গাপুর।) মা ছিলেন নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরের জমিদার পরিবারের মেয়ে।
- 1903–1908
আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারান। ঢাকায় কয়েক বছর থাকার পর মায়ের সঙ্গে সুসং দুর্গাপুরে চলে আসেন; সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে মাধ্যমিক পড়াশোনার জন্য কলকাতায় যান।
- 1914
কলকাতায় স্কুলছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠন অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন।
- 1921
অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে গভীরভাবে প্রভাবিত হন; সুসং দুর্গাপুরে কৃষক ও কলকাতায় শ্রমিকদের সংগঠিত করতে শুরু করেন।
- 1925
ব্যক্তিগত সশস্ত্র তৎপরতার পথ ছেড়ে মার্ক্সবাদ গ্রহণ করেন এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনে (ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি) যুক্ত হন।
- 1928
কলকাতার মেটিয়াবুরুজে কেশোরাম কটন মিলে ১৩ দিনের সফল শ্রমিক ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেন – এটিই তাঁর প্রথম বড় সাফল্য।
- 1930–1937
১৯৩০ সালে গ্রেপ্তার হন; ১৯৩৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কারাগারে ও পরে অন্তরীণ অবস্থায় থাকেন।
- 1937
সুসং দুর্গাপুরে ফিরে হাজং ও গারো কৃষকদের অনুরোধে শোষণমূলক টংক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন।
- 1945
নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত কৃষক সভার সম্মেলনের অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি।
- 1946–1950
টংক আন্দোলন সশস্ত্র কৃষক অভ্যুত্থানে রূপ নেয়; হাজং মাতা রাশিমণিসহ অনেকে শহীদ হন। ১৯৪৭-এর পর পাকিস্তান সরকার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে এবং মাথার দাম ঘোষণা করে।
- 1950–1951
টংক প্রথা বিলুপ্ত হয়। আত্মগোপনে থেকেই ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- 1954–1968
১৯৫৪ সালে পার্টি নিষিদ্ধ হয়। প্রায় দুই দশক আত্মগোপনে থেকে পার্টি পরিচালনা করেন; ১৯৫৬-তে আবার সম্পাদক ও ১৯৬৮-তে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন; ১৯৬৭ সালে অন্তরীণ হন।
- 1969
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে মুক্তি পান, কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই আবার গ্রেপ্তার হন।
- 1971
১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল বন্দিরা রাজশাহী কারাগার ভেঙে তাঁকে মুক্ত করেন। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠনে ভূমিকা রাখেন, সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে কাজ করেন এবং মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন।
- 1973
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হন।
- 1975–1978
১৯৭৫-এ বাকশালে যোগ দেন; ১৯৭৬-এ কমিউনিস্ট পার্টি পুনর্গঠন করেন; ১৯৭৭-এ সামরিক শাসনামলে আবার গ্রেপ্তার হন; ১৯৭৮-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের পক্ষে প্রচার চালান।
- 1980
তৃতীয় কংগ্রেসে আবার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু এই পদে ছিলেন।
- 1983
আত্মজীবনী ‘জীবন সংগ্রাম’ প্রকাশিত হয়; ১৯৮৮ সালে এর ইংরেজি অনুবাদ “Life is a Struggle” বের হয়।
- 1984
১৯৮৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন; এর পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসতে হয়।
- 1990
১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রয়াত হন। প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় এবং দুর্গাপুরে মণি মেলা শুরু হয়।
- 2004
বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রদান করে।
- 2022
২৮ জুন ২০২২ ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে মণি সিংহ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
টংক আন্দোলনের নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি (১৯০১–১৯৯০)